নওগাঁয় সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। মান্দা উপজেলার একটি সড়ক নির্মাণকাজে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহার না করে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এতে নতুন সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলার মান্দা ইউনিয়নের কোচড়া বাদলঘাটা হিন্দুপাড়া পাকা রাস্তা থেকে দক্ষিণ কোচড়া বাদলঘাটা পর্যন্ত ১ হাজার ৭৩০ মিটার সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী উন্নতমানের ইটের খোয়া ও বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে ২ ও ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। সড়কের সাব-বেস ও বেস তৈরিতেও উপকরণের সঠিক অনুপাত বজায় রাখা হচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।
কোচড়া বাদলঘাটা গ্রামের বাসিন্দা শামসুল আলম মোল্লা বলেন, ঠিকাদার কাজ শেষ করে চলে যাবেন, কিন্তু স্থানীয় মানুষকেই দীর্ঘদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে হবে। তাঁর আশঙ্কা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে ছয় মাসের মধ্যেই রাস্তাটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে সরকারের অর্থ ব্যয় হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাবেন না।
একই গ্রামের মহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলিত ছিল। পরে প্রায় দুই কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়ায় এলাকাবাসী আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান নির্মাণকাজের মান নিয়ে তাঁরা হতাশ। তাঁর মতে, কাজের মান নিশ্চিত না হলে নতুন পাকা সড়কটি স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা কান্তি কুমার সরকারও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির ইট ব্যবহারের পরিবর্তে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ কারণে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোছা. পারুল এশিয়া পোস্টকে বলেন, এ কাজে এখন পর্যন্ত তাঁর ২৪ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই তিনি এসব উপকরণ ব্যবহার করছেন। তবে উপকরণের মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং অনুমতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো নথি এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলীর লিখিত অনুমতি ছাড়া মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান, অভিযোগের সত্যতা এবং কাজের অনুমোদিত শর্ত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন