ভারতীয় অভিনেতা নানা পাটেকারের সম্পদ ও সমাজসেবামূলক কাজ নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে খ্যাতি ও অর্থ অর্জন করলেও কৃষক ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৫০ থেকে ৮০ কোটি রুপি। তবে এ হিসাব আনুষ্ঠানিক আর্থিক বিবরণী থেকে পাওয়া নয়।

নানা পাটেকার হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় প্রায় পাঁচ দশক ধরে অভিনয় করেছেন। পর্দায় শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনে সাদামাটা জীবনযাপনের জন্যও পরিচিত তিনি। অভিনয়, বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য কাজ থেকে আয় করেছেন এই অভিনেতা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মুম্বাই, গোয়া ও পুনের কাছাকাছি তাঁর বাড়ি, ফ্ল্যাট ও কৃষিজমির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

নানা পাটেকারের সমাজসেবামূলক কাজের বড় অংশজুড়ে রয়েছে কৃষকদের সহায়তা। ২০১৫ সালে মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে খরা ও কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। এরপর নিজের অর্থ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন তিনি। পরে মারাঠি অভিনেতা মকরন্দ আনাসপুরের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাম ফাউন্ডেশন’।

ফাউন্ডেশনটি খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও তাঁদের পরিবারকে সহায়তা, পানিসংরক্ষণ এবং গ্রামীণ উন্নয়নে কাজ করে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক কৃষক ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সহায়তা পেয়েছে। কৃষকদের দুর্দশা কমাতে নানা পাটেকারের উদ্যোগ তাঁকে অভিনয়ের বাইরেও মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলেছে।

সমাজসেবায় তাঁর অবদান শুধু কৃষকদের আর্থিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পাঠশালা’ সিনেমায় অভিনয়ের পারিশ্রমিক তিনি কয়েকটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করেছিলেন। মহারাষ্ট্র সরকারের একটি পুরস্কারের সঙ্গে পাওয়া অর্থ খরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় দেওয়ার কথাও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে নিজের মোট আয়ের ৯০ শতাংশ দান করতেন, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।

নানা পাটেকারের সম্পদের উত্তরাধিকার নিয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ্যে নেই। তাঁর স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকার ও ছেলে মালহার পাটেকার রয়েছেন। তবে কোনো উইল করা হয়েছিল কি না কিংবা সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন হবে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে পরিবারের সদস্যরা কে কত সম্পদ পাবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।