মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদহারের চাপে ব্যবসা ও উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় পাবে। এতে সাময়িক সংকটে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশের রফতানি খাতেও চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটে রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের আয় ও নগদ প্রবাহ কমেছে।
এর সঙ্গে বাজারভিত্তিক সুদহার চালুর পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের সুদ ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর। এই পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ১৮ মাসের একটি রোডম্যাপ নিয়েছে। এর প্রথম ছয় মাসের সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ঋণগ্রহীতাদের পরিশোধ সক্ষমতা ধরে রাখতে নতুন নীতি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় বড় ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বাড়তি সময় দেওয়া হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এ থাকা বিধানের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য হলো সাময়িক সংকটে পড়লেও সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে এবং ধীরে ধীরে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা পেলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আবার স্বাভাবিক ব্যবসায় ফিরতে পারবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে ঋণের মান উন্নয়ন এবং খেলাপি ঋণের চাপ কমানোর উদ্যোগও এতে এগিয়ে যাবে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন