কৃত্রিমভাবে পাকানো কলা নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা ধরনের ধারণা রয়েছে। বাজারে সুন্দর হলুদ রঙের কলা দেখলেই সেটি স্বাভাবিকভাবে পেকেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু খোসার রং, দাগ বা ডাঁটার অবস্থা দেখে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না কলাটি কীভাবে পাকানো হয়েছে।

বাজারে বিক্রির সুবিধার জন্য কলা অনেক সময় পুরোপুরি পাকার আগেই সংগ্রহ করা হয়। পরে উপযুক্ত পরিবেশে রাখলে কলা স্বাভাবিকভাবেই পাকতে থাকে। কলার এই পাকার প্রক্রিয়ায় ইথিলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাণিজ্যিকভাবেও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইথিলিন ব্যবহার করে কলা পাকানো হয়।

তবে কৃত্রিমভাবে পাকানো কলা বলতে অননুমোদিত বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টিও বোঝানো হয়। বিশেষ করে ক্যালসিয়াম কার্বাইড নিয়ে খাদ্য নিরাপত্তার উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসও কার্বাইড দিয়ে ফল পাকানোর বিষয়ে সতর্ক করেছে।

কলা কেনার সময় তাই অস্বাভাবিক তীব্র গন্ধ, অস্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল রং কিংবা বাইরের তুলনায় ভেতরে অতিরিক্ত শক্ত বা অপরিপক্ব ভাব থাকলে সতর্ক হতে পারেন। তবে এসব লক্ষণ একাই কৃত্রিমভাবে পাকানো কলা শনাক্ত করার নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা নয়।

ফল কেনার ক্ষেত্রে পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো। বাড়িতে আনার পর কলা পরিষ্কার, শুকনো ও উপযুক্ত জায়গায় রাখুন। অতিরিক্ত নরম হয়ে গেলে, পচা গন্ধ বা ছত্রাক দেখা দিলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, কলার খোসা দেখে কেবল নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় যে এটি রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে। তাই কৃত্রিমভাবে পাকানো কলা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ উৎস থেকে ফল কেনা এবং সন্দেহজনক ফল এড়িয়ে চলাই ভালো।