টবে রসুন চাষ করতে খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না। বারান্দা, ছাদ কিংবা বাড়ির ছোট্ট বাগানেও সহজেই রসুনের গাছ লাগানো সম্ভব। রান্নাঘরের পরিচিত এই মসলা চাষের জন্য খুব জটিল পরিচর্যাও দরকার হয় না। ভালো মানের রসুনের কোয়া, পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত ঝুরঝুরে মাটি এবং নিয়মিত যত্ন থাকলেই বাড়িতে রসুন ফলানোর চেষ্টা করা যায়। তবে শুরুতেই সঠিক কোয়া ও উপযুক্ত টব বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমে চাষের জন্য বড় ও স্বাস্থ্যকর রসুনের কোয়া বেছে নিতে হবে। সাধারণভাবে ভালো মানের বীজ বা রোপণের উপযোগী কোয়া বিশ্বস্ত নার্সারি বা বিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে। রসুনের কোয়া আলাদা করার সময় বাইরের শুকনো খোসা পুরোপুরি তুলে ফেলা উচিত নয়। রোপণের জন্য এমন টব নিতে হবে যাতে নিচে পানি বের হওয়ার পর্যাপ্ত ছিদ্র থাকে। মাটির সঙ্গে ভালো মানের কম্পোস্ট বা জৈব সার মিশিয়ে নিলে গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়।

কোয়া রোপণের সময় তার সূঁচালো অংশটি ওপরের দিকে রাখতে হবে। প্রায় ২ ইঞ্চি গভীরে প্রতিটি কোয়া পুঁতে দেওয়া যায়। একটি কোয়া থেকে আরেকটির মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা দরকার, যাতে বড় হওয়ার সময় গাছগুলো একে অন্যের সঙ্গে বেশি প্রতিযোগিতায় না পড়ে। কোয়া পোঁতার পর হালকা করে মাটি চাপা দিতে হবে। চাইলে মাটির ওপর শুকনো পাতা বা খড়ের পাতলা স্তর দেওয়া যায়। এতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং আগাছা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

রসুনের অঙ্কুর মাটি ভেদ করে বের হওয়ার পর নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। মাটি শুকিয়ে গেলে পরিমিত পানি দিতে হবে, তবে টবে পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। অতিরিক্ত আর্দ্রতায় রসুনের শিকড় পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে টবের আগাছাও নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। রসুনের শিকড় তুলনামূলকভাবে মাটির ওপরের স্তরের কাছাকাছি থাকে। ফলে আগাছা মাটির পানি ও পুষ্টির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে গাছের বৃদ্ধিতে বাধা দিতে পারে।

গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কখনো ফুলের মতো প্যাঁচানো ডাঁটা বের হতে দেখা যায়। রসুনের কিছু জাতের ক্ষেত্রে এই ডাঁটা তৈরি হলে তা সরিয়ে দেওয়া যায়। এতে গাছের শক্তি মূল অংশের বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে জাতভেদে পরিচর্যার নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই সম্ভব হলে যে জাতের রসুন লাগানো হচ্ছে, সেটির স্থানীয় চাষপদ্ধতি সম্পর্কেও জেনে নেওয়া ভালো। রসুনের পাতা শুকিয়ে বাদামি হতে শুরু করা সাধারণত ফসল তোলার সময় ঘনিয়ে আসার একটি লক্ষণ।

রসুন তোলার সময় গাছ ধরে জোরে টান দেওয়া উচিত নয়। এতে রসুনের মাথা বা গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বরং ছোট বাগান করার সরঞ্জাম দিয়ে গোড়ার মাটি আলগা করে আস্তে করে রসুন তুলে নিতে হবে। তোলার পর সঙ্গে সঙ্গে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার প্রয়োজন নেই। গায়ে লেগে থাকা মাটি শুকনো কাপড় বা নরম ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করা যায়। এরপর রসুনগুলো বাতাস চলাচল করে এমন ছায়াযুক্ত জায়গায় কয়েক সপ্তাহ শুকাতে দিতে হবে। বাইরের খোসা ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে ডাঁটা ও শিকড় ছেঁটে ঝুড়ি বা জালের ব্যাগে রেখে সংরক্ষণ করা যায়। তাই জায়গা কম হলেও সঠিক পদ্ধতি ও নিয়মিত পরিচর্যায় বাড়ির টবেই রসুন চাষের চেষ্টা করা সম্ভব।