গাড়ি পার্কিং নিয়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সড়কের দুই পাশে, অনিরাপদ জায়গা কিংবা নির্জন স্থানে কোনো ধরনের যানবাহন না রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানান সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম। তাঁর ভাষ্য, অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি বা ভাঙচুর এড়াতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ সারা দেশে চলাচলকারী বাস, ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দিনের চলাচল শেষ হওয়ার পর গাড়ি যেখানে রাখা হচ্ছে, সেটি নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য নিজ নিজ ডিপো, নির্ধারিত গ্যারেজ অথবা টার্মিনালে গাড়ি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে নিরাপদ পাহারার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ রাস্তার পাশে রাতভর গাড়ি ফেলে রাখার বদলে নিরাপদ ও নির্ধারিত স্থানে রাখার ওপর জোর দিয়েছে মালিক সমিতি।
সমিতির এই নির্দেশনা এসেছে রাজধানীতে একাধিক বিস্ফোরণ এবং একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পরদিন। শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে রাজধানীর অন্তত ৯টি স্থানে ১৩টি ককটেল বিস্ফোরণের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিস্ফোরণে একজন অটোরিকশাচালক আহত হন। একই রাতে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন খাতের যানবাহনগুলোকে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে। মালিক সমিতি বলছে, কোনো ধরনের ক্ষতিসাধন বা ভাঙচুরের ঝুঁকি এড়াতে মালিক ও শ্রমিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। তাই দিনের কাজ শেষ হওয়ার পর গাড়ি কোথায় রাখা হচ্ছে, সে বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু বাস নয়, পণ্য পরিবহনের যানবাহনগুলোর ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা প্রযোজ্য। নির্জন বা অনিরাপদ জায়গায় গাড়ি রাখলে ঝুঁকি বাড়তে পারে—এ কারণেই নির্ধারিত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে শুক্রবারের ঘটনাগুলোর পর রাজধানীতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনার পাশাপাশি প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশিও চালানো হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ একটি মামলায় সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন খাতে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সংগঠনটির নির্দেশনা অনুযায়ী, চলাচল শেষে গাড়ি রাস্তার পাশে বা নির্জন স্থানে না রেখে ডিপো, গ্যারেজ কিংবা টার্মিনালে নিরাপদে রাখার কথা বলা হয়েছে। মালিক ও শ্রমিকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নির্দেশনা গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। পরিবহন খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি এবং নিরাপদ গাড়ি রাখার ব্যবস্থা এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন