দিনো মোরিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (ইওডব্লিউ)। মুম্বাইয়ের মিঠি নদীর পলি অপসারণ ও সংস্কার প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে করা মামলায় শুক্রবার ২ অক্টোবর তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বান্দ্রার বাসভবনে প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত বছরও তাঁর বাড়িতে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েছিল ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

মামলার তদন্তে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দরপত্রে কারসাজি, অতিরিক্ত খরচ দেখানো এবং ভুয়া বিল তৈরির মাধ্যমে বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার (বিএমসি) প্রায় ৬৫ কোটি ৫৪ লাখ রুপি ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। নদীর পলি অপসারণের কাজের চুক্তি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, অর্থের প্রবাহ কোথায় গিয়েছিল এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কার কী ভূমিকা ছিল, এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে ইওডব্লিউ।

এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কেতন কদমের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে তদন্তে দিনো মোরিয়ার নাম সামনে আসে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তদন্তকারীরা ফোনকলের তথ্যসহ বিভিন্ন যোগাযোগের বিষয় যাচাই করছেন। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে দিনো এবং তাঁর ভাই সান্তিনো মোরিয়াকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁদের সঙ্গে মামলার অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়।

তদন্তে সান্তিনোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘ইউবিও রাইডজ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও নজরে এসেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কেতন কদমের পরিবারের ব্যবসায়িক যোগাযোগ থাকার তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কদম ও সান্তিনোর মধ্যে কী ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছিল এবং মিঠি নদীর কাজের অর্থের কোনো অংশ ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গিয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

মামলাটিতে কেতন কদম ও জয়েশ জোশীকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৌরসভার কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে দরপত্রের শর্ত তৈরি করা হয়েছিল এবং পলি পরিবহনের নামে ভুয়া বিল করা হয়েছে। এমনকি নদীর পলি অপসারণে ব্যবহৃত যন্ত্রের দরপত্রের শর্ত নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা।

দিনো মোরিয়াকে ঘিরে এর আগেও ইডির তদন্ত হয়েছিল। ২০২৫ সালের ৬ জুন তাঁর বান্দ্রার বাড়িতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালানো হয়। একই সময়ে মুম্বাই ও কেরালার কোচিতে তাঁর ভাই, পৌর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ঠিকানাতেও অভিযান চালানো হয়েছিল। পরে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় তদন্ত শুরু করে ইডি। তবে বর্তমান মামলায় দিনো মোরিয়ার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।