বাজারদর নিয়ে ক্রেতাদের অস্বস্তি কাটছে না। মাছ, মাংস, মুরগি, ডিম থেকে শুরু করে সবজি প্রায় সব পণ্য কিনতেই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকায় মাছের সরবরাহ কমেছে, অন্যদিকে জ্বালানি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বাজারে। ফলে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে চাপে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
ইলিশের আহরণ বন্ধ থাকায় সাগর ও নদীতে জেলেদের মাছ ধরা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সরবরাহেও। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে খাল-বিল ও চাষের মাছের ওপর চাপ বেড়েছে। আগে থেকেই চড়া থাকা মাছের বাজারে সরবরাহ কমার অজুহাতে দাম আরও বেড়েছে। চাষের রুই-কাতলার দাম কেজিতে ৫০ টাকার বেশি বেড়েছে। নদীর বিভিন্ন সুস্বাদু মাছ কিনতে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
মাছের পাশাপাশি পোল্ট্রি বাজারেও স্বস্তি নেই। দেশি মুরগির দাম কিছুটা কমলেও কেজিপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা হওয়ায় তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। তুলনামূলক কম দামের ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩৪০ টাকার নিচে নামছে না। বিক্রেতাদের দাবি, পোল্ট্রি ফিডের দাম বাড়ায় মুরগি উৎপাদনের খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
গরুর মাংসের দামও ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ হয়ে আছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে খাসির মাংসে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০০ টাকা কমে এখন তা প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবু উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবারের নিয়মিত খাদ্যতালিকা থেকে মাংস বাদ দিতে হচ্ছে।
ডিমের বাজারেও দামের উত্তাপ কমেনি। রাজধানীর বড় বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে ১৫০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে একই ডিম কিনতে আরও ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। ফলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী খাবার হিসেবে ডিমের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকেও বাড়তি খরচ সামলাতে হচ্ছে।
এদিকে শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও দাম কমার লক্ষণ নেই। বরং ফুলকপি ও করলার মতো কিছু সবজির দাম বেড়েছে। শিম, টমেটো ও ধনেপাতার দামও ক্রেতাদের ভাবিয়ে তুলছে। লেবু কিনতেও আগের তুলনায় বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুমের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে মাত্র। সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি দামের পুরো সুবিধা কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন