বাংলাদেশের পদক কততম

বাংলাদেশের পদক এবারের ২০তম এশিয়ান গেমসে একটি ব্রোঞ্জেই সীমাবদ্ধ। সেই একটি পদক নিয়েই চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৭তম। আইচি-নাগোয়ার আসরে মোট ৪৫টি দেশ এবং একটি শরণার্থী দল অংশ নেয়। এর মধ্যে পদক জিতেছে ৪০টি দেশ।

পদক তালিকার শীর্ষে অবশ্য পরিচিত দুই নামই রয়েছে। চীন এবারও সবার ওপরে থেকে আসর শেষ করেছে। এরপর দ্বিতীয় স্থানে জাপান। দক্ষিণ কোরিয়া রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। বিপরীতে বাংলাদেশের নাম খুঁজতে যেতে হয়েছে তালিকার একেবারে নিচের দিকে।

একটি ব্রোঞ্জেই ৩৭তম বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ঝুলিতে এসেছে মাত্র একটি ব্রোঞ্জ পদক। একই সংখ্যক ব্রোঞ্জ জেতায় ব্রুনেই, লাওস ও সিরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশও যৌথভাবে ৩৭তম হয়েছে। অর্থাৎ পদক তালিকার শেষের দিকেই জায়গা হয়েছে বাংলাদেশের।

তবে সংখ্যায় একটি হলেও এই পদকের গুরুত্ব কম নয়। উশুতে জিন্নাত আক্তারের হাত ধরে এসেছে পদকটি। এর মধ্য দিয়ে একক ইভেন্টে এশিয়ান গেমসে ৪০ বছর পর আবারও পদক জয়ের সুযোগ পেল বাংলাদেশ।

কীভাবে পদক জিতলেন জিন্নাত

জিন্নাত আক্তারের পদক জয়ের পথটিও ছিল কিছুটা ভিন্ন। কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ ডিসকোয়ালিফায়েড হওয়ায় সরাসরি সেমিফাইনালে উঠে যান তিনি। সেখানে চীনের উ দিয়ের কাছে হারলেও সেমিফাইনালে ওঠার সুবাদে তাঁর ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হয়ে যায়।

ফলে খুব বেশি ম্যাচ না খেলেই দেশের জন্য বড় অর্জন এনে দেন জিন্নাত। তাঁর এই সাফল্য এবারের আসরে বাংলাদেশের একমাত্র ব্যক্তিগত পদকও হয়ে থাকল।

ক্রিকেটেও ছিল পদকের আশা

উশুর পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আশা ছিল ক্রিকেটে। ছেলেদের দল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিল। কিন্তু লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দলটি সেই ম্যাচে হেরে যাওয়ায় আরেকটি ব্রোঞ্জের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ মোট ১৮৭ জন অ্যাথলেট পাঠিয়েছিল। ক্রিকেটের পাশাপাশি কাবাডি, আর্চারি ও শুটিং থেকেও পদকের প্রত্যাশা ছিল। শেষ পর্যন্ত এসব ইভেন্ট থেকে আর কোনো পদক আসেনি।

চীন-জাপানের দাপট

পদক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান যেমন হতাশার, শীর্ষে থাকা দেশগুলোর চিত্র তেমনই প্রত্যাশিত। চীন এবার ১৬৯টি সোনা, ৮৭টি রুপা ও ৮৫টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৩৪১টি পদক জিতে শীর্ষে রয়েছে। এশিয়ান গেমসের সর্বকালের পদক তালিকাতেও চীন সবার ওপরে।

জাপান ৮৩টি সোনা জিতে দ্বিতীয় হয়েছে। সর্বকালের তালিকাতেও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তারা। দক্ষিণ কোরিয়া পেয়েছে ৩৯টি সোনা, যা তাদের এবারের আসরে তৃতীয় স্থানে রেখেছে। ফলে বড় শক্তিগুলোর আধিপত্যের মধ্যেই একটি ব্রোঞ্জ নিয়ে ৩৭তম হয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সামনে এখন প্রশ্ন

একটি ব্রোঞ্জ নিয়ে আসর শেষ হলেও জিন্নাত আক্তারের সাফল্য বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক। বিশেষ করে একক ইভেন্টে দীর্ঘ ৪০ বছর পর পদক পাওয়া নতুন করে সম্ভাবনার কথা বলছে।

তবে একই সঙ্গে এত বড় একটি দলের অংশগ্রহণের পর মাত্র একটি পদক পাওয়া বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ভাবনার বিষয়ও। ভবিষ্যতে আর্চারি, শুটিং, কাবাডি ও অন্যান্য খেলায় আরও প্রস্তুতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে পদকের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।