দেশে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হয়েছে। রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি করেন। তবে রিট দায়ের হওয়ার অর্থ এই নয় যে এখনই প্রেমের নাটক বা সিনেমা নির্মাণ ও প্রচার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি আদালতে শুনানির জন্য উঠলে তখনই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, অতিরিক্ত প্রেম ও রোমান্সনির্ভর কনটেন্টে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সমাজ ও তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর দাবি, এ ধরনের কনটেন্টের পরিবর্তে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস ও অন্যান্য জ্ঞানভিত্তিক বিষয় নিয়ে আরও নাটক-সিনেমা তৈরি হওয়া প্রয়োজন। এসব যুক্তির ভিত্তিতেই আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে ২৭ আগস্ট একই দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন ওই আইনজীবী। নোটিশে ১০ দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল এবং তা না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের পর সেই ধারাবাহিকতায় এবার জনস্বার্থে রিট করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনার পর্যায়ে এসেছে।
তবে আইনি নোটিশটি প্রকাশের পর দেশের টেলিভিশন নাটক ও অডিওভিজ্যুয়াল খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি সংগঠন উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তাদের পক্ষ থেকে সৃজনশীল স্বাধীনতা এবং নাটক-সিনেমার বিষয় নির্বাচনের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ সামনে আনা হয়। ফলে আদালতে বিষয়টি উঠলে নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের পাশাপাশি মতপ্রকাশ ও সৃজনশীল স্বাধীনতার প্রশ্নও আলোচনায় আসতে পারে। এই বিতর্কের কারণে রিটটি বিনোদন অঙ্গনেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, হাইকোর্ট কী সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। প্রথমে আদালত রিটের বক্তব্য ও আইনগত ভিত্তি বিবেচনা করতে পারেন এবং প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে রুল জারি করতে পারেন। আবার রিটটি গ্রহণযোগ্য মনে না হলে আবেদন খারিজ বা নিষ্পত্তিও হতে পারে; পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্তর্বর্তী কোনো নির্দেশনার প্রশ্নও আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ হাইকোর্ট বিভাগকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সরকারি ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশ বা আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।
তাই এখনই ‘প্রেমের নাটক-সিনেমা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে’ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। রিটটির শুনানি, আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং কোনো রুল বা অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়া হয় কি না, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আদালত কীভাবে আবেদনকারীর সামাজিক ও নৈতিকতার যুক্তির সঙ্গে সাংবিধানিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনা করেন, সেদিকেও নজর থাকবে। নতুন আদেশ এলে তখনই বোঝা যাবে বাংলাদেশের নাটক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে এই রিটের বাস্তব কোনো প্রভাব পড়বে কি না।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন