রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডাকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ নতুন নয়। বাস্তব জীবনের সম্পর্কের পর্দার বাইরের নানা মুহূর্তও প্রায়ই আলোচনায় আসে। এবার সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাশমিকার একটি মিষ্টি মন্তব্য। নতুন সিনেমা ‘রানাবালি’ মুক্তির আগে অভিনেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজয়কে নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। সিনেমাটির ‘এন্ধাইয়া সামি’ গানের একটি অংশ শেয়ার করে তিনি বুঝিয়েছেন, নিজের মানুষ হয়েও বিজয়কে দেখলে তাঁর মনে এখনো ক্রাশের অনুভূতি তৈরি হয়। রাশমিকার এই স্বীকারোক্তি প্রকাশ্যে আসার পর তাঁদের ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। কারণ, ভালোবাসার সম্পর্কের পাশাপাশি পর্দায়ও এই জুটিকে এবার একসঙ্গে দেখা যাবে।

রাশমিকা মান্দানা তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্টোরিতে ‘এন্ধাইয়া সামি’ গানের একটি অংশ শেয়ার করেন। সেখানে বিজয় দেবেরাকোন্ডাকে নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা লিখেছেন তিনি। রাশমিকার বক্তব্যের সারকথা হলো, বিজয় তাঁর নিজের মানুষ এমনটা জানার পরও তাঁকে দেখে ক্রাশ খাওয়ার অনুভূতি কমেনি। বরং প্রিয় মানুষকে নতুন কোনো মুহূর্তে দেখলে যেমন ভালো লাগা তৈরি হয়, তাঁর ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটে। এই মিষ্টি মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে ভক্তদের। বিশেষ করে সিনেমার গানের দৃশ্যে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় মন্তব্যটি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। ব্যক্তিগত জীবনের সম্পর্কের পাশাপাশি পর্দায় তাঁদের রসায়ন নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রাশমিকার পোস্টের পর চুপ থাকেননি বিজয় দেবেরাকোন্ডাও। তিনি মজার ও আবেগঘন ভঙ্গিতে জবাব দিয়েছেন। বিজয় লিখেছেন, তিনি নিজেকে আশীর্বাদপুষ্ট মনে করেন। একই সঙ্গে জয়াম্মা চরিত্রটির কথা উল্লেখ করে জানান, চরিত্রটিকে তিনি মিস করবেন। তবে রাশমিকাকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার বিষয়টিকে আলাদা করে তুলে ধরেছেন তিনি। বিজয়ের এই উত্তরও ভক্তদের নজর কেড়েছে। কারণ ‘রানাবালি’ সিনেমায় রাশমিকা শুধু সহশিল্পী নন, গল্পে তিনি বিজয়ের চরিত্রের স্ত্রী ও সংগ্রামের সঙ্গী জয়াম্মার ভূমিকায় অভিনয় করছেন। ফলে পর্দার চরিত্র ও বাস্তব জীবনের সম্পর্কের মধ্যে একটি মজার মিলও তৈরি হয়েছে।

‘রানাবালি’ সিনেমায় নাম-ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা। অন্যদিকে রাশমিকা মান্দানাকে দেখা যাবে তাঁর স্ত্রী জয়াম্মার চরিত্রে। সিনেমাটির গল্প তৈরি হয়েছে ভারতের ইতিহাসের কঠিন এক সময়কে ঘিরে। ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষকে গল্পের পটভূমি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কাহিনিতে দক্ষিণ ভারতের দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক বিদ্রোহী যোদ্ধার সংগ্রাম তুলে ধরা হবে। ব্রিটিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের অঞ্চল ও সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন তিনি। ফলে সিনেমাটিতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি ইতিহাস, সংগ্রাম ও সংঘাতের বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কর্মকর্তা স্যার থিওডোর হেক্টর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আর্নল্ড ভসলো।

রাহুল সাংকৃত্যায়ন পরিচালিত ‘রানাবালি’ প্রযোজনা করেছে মিথ্রি মুভি মেকার্স। সিনেমাটির কাহিনিতে ঐতিহাসিক পটভূমির সঙ্গে অ্যাকশন ও আবেগের সমন্বয় রাখা হয়েছে। বিজয় দেবেরাকোন্ডার চরিত্রকে কেন্দ্র করেই গল্প এগোলেও জয়াম্মা হিসেবে রাশমিকার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে থাকা এবং সংগ্রামের অংশ হয়ে ওঠার বিষয়টি তাঁর চরিত্রে গুরুত্ব পাবে। ‘এন্ধাইয়া সামি’ গানের প্রকাশিত অংশে দুই তারকার উপস্থিতি এরই মধ্যে দর্শকদের নজর কেড়েছে। বাস্তব জীবনে তাঁরা একসঙ্গে পথ চলছেন, আর এবার পর্দায়ও স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে দেখা যাবে এই বিষয়টি সিনেমাটিকে ঘিরে কৌতূহল আরও বাড়িয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘রানাবালি’র। সিনেমাটি মুক্তির আগে রাশমিকা ও বিজয়ের কথোপকথন তাই ভক্তদের আগ্রহের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাশমিকার ‘নিজের মানুষ হয়েও ক্রাশ’ মন্তব্যটি তাঁদের সম্পর্কের প্রতি তাঁর সহজ ও মিষ্টি অনুভূতিই তুলে ধরেছে। অন্যদিকে বিজয়ের জবাবেও উঠে এসেছে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ইঙ্গিত। এখন সিনেমাটি মুক্তির পর পর্দায় এই বাস্তব জীবনের জুটির রসায়ন দর্শকদের কেমন লাগে, সেটিই দেখার বিষয়।