জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও নিকোটিনজাত পণ্য নিষিদ্ধের দাবি সামনে এসেছে। শিশু-কিশোর ও তরুণদের এসব পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করুন, শিশু-তরুণদের রক্ষা করুন’।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবসটি উপলক্ষে নেওয়া কর্মসূচির তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটি বলছে, তামাকের ব্যবহার কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আবাহনী খেলার মাঠের সামনে অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের উদ্যোগে এ কর্মসূচিতে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ৩৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস বাংলাদেশে ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির উদ্দেশ্য তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানো। এ বছর ই-সিগারেট ও ভ্যাপের ব্যবহার নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ এসব পণ্যের প্রতি শিশু-কিশোর ও তরুণদের আকৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা জনস্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্বেগের বিষয়।

রাজধানীর কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা, সেমিনার, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো এসব আয়োজনের মাধ্যমে তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনজাত পণ্য থেকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তামাকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।