হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী জিম ক্যারি ৬৪ বছর বয়সে তৃতীয়বারের মতো বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা মিন আহকে বিয়ে করেছেন ‘দ্য মাস্ক’, ‘ব্রুস অলমাইটি’ ও ‘ডাম্ব অ্যান্ড ডাম্বার’খ্যাত এই তারকা। লস অ্যাঞ্জেলেসে একান্ত ও ব্যক্তিগত আয়োজনে তাদের বিয়ে হয়েছে। জিম ক্যারির মুখপাত্র বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিয়েটি হয়েছে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। তবে অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত হওয়ায় কোথায় আয়োজন করা হয়েছিল, অনুষ্ঠানে ঠিক কারা উপস্থিত ছিলেন কিংবা বিয়ের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও অতিথি তালিকা বা অনুষ্ঠানের ভেন্যু সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
মিন আহর বয়স ৩২ বছর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ জিম ক্যারির সঙ্গে তার বয়সের ব্যবধান ৩২ বছর। বয়সের এই পার্থক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হলেও দুজনই তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্য আলোচনার বাইরে রেখেছেন।
জিম ক্যারি ও মিন আহর সম্পর্ক নিয়ে দর্শক ও ভক্তদের আগ্রহ বাড়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্যারিসে অনুষ্ঠিত ৫১তম সিজার অ্যাওয়ার্ডসে প্রথমবারের মতো তারা প্রকাশ্যে একসঙ্গে হাজির হন। ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে জিম ক্যারি সম্মানসূচক সিজার পুরস্কার গ্রহণ করেন।
পুরস্কার গ্রহণের সময় দেওয়া বক্তব্যে জিম ক্যারি তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি মিন আহর কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ফরাসি ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি মিন আহকে তার ‘sublime companion’ বা বিশেষ সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বক্তব্যের পরই তাদের সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
সেই অনুষ্ঠানে মিন আহ জিম ক্যারির পরিবারের সদস্যদের কাছাকাছি বসেছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিমের মেয়ে জেন ক্যারি ও নাতি জ্যাকসনের পাশেও তাকে দেখা যায়। এর ফলে তাদের সম্পর্ক যে শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জিম ক্যারির ঘনিষ্ঠ পারিবারিক পরিসরেও মিন আহর উপস্থিতি রয়েছে এমন ধারণা তৈরি হয়।
জিম ক্যারি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই তুলনামূলকভাবে সংযত। কর্মজীবনে তিনি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা হলেও প্রেম, সম্পর্ক ও পারিবারিক বিষয়কে সবসময় সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে চাননি।
মিন আহও বিনোদন অঙ্গনে খুব বেশি আলোচিত মুখ নন। প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করেন এবং অভিনয় ও শিল্পকলার সঙ্গে যুক্ত। তবে তার ব্যক্তিগত জীবন, ক্যারিয়ার ও জিম ক্যারির সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে শুরু হয়েছিল এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য খুব সীমিত।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, এই জুটিকে ২০২২ সালেও একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তবে তখন তাদের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা ছিল না। ২০২৬ সালের সিজার অ্যাওয়ার্ডসের উপস্থিতি তাদের সম্পর্ককে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আলোচনায় নিয়ে আসে।
মিন আহকে বিয়ে করার মধ্য দিয়ে জিম ক্যারির বৈবাহিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এর আগে তিনি দুইবার বিয়ে করেছিলেন।
১৯৮৭ সালে জিম ক্যারি বিয়ে করেন মেলিসা ওমারকে। মেলিসা অভিনয় ও প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তার নাম জেন এরিন ক্যারি। প্রায় আট বছর সংসার করার পর ১৯৯৫ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
প্রথম বিয়ের পর ১৯৯৬ সালে জিম ক্যারি তার ‘ডাম্ব অ্যান্ড ডাম্বার’ সিনেমার সহশিল্পী লরেন হলিকে বিয়ে করেন। সিনেমাটিতে একসঙ্গে কাজ করার সময় তাদের পরিচয় ও সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। ১৯৯৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের বিয়ে হয়। তবে এই দাম্পত্য সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে এবং ১৯৯৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সম্পর্কের সমাপ্তি হয়।
এরপর জিম ক্যারির জীবনে আরও কয়েকটি আলোচিত সম্পর্ক এসেছে। অভিনেত্রী রেনে জেলওয়েগারের সঙ্গে তার বাগদানও হয়েছিল। পরে মডেল ও অভিনেত্রী জেনি ম্যাকার্থির সঙ্গেও দীর্ঘ সময় সম্পর্কে ছিলেন। তবে এসব সম্পর্কের কোনোটিই বিয়েতে গড়ায়নি।
১৯৯৭ সালে লরেন হলির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর প্রায় তিন দশক জিম ক্যারি আর বিয়ে করেননি। সেই হিসেবে মিন আহর সঙ্গে তার বিয়ে তার ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন বৈবাহিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকে জিম ক্যারি তার অভিনয় ও কৌতুকের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। ‘দ্য মাস্ক’, ‘ডাম্ব অ্যান্ড ডাম্বার’, ‘অ্যাস ভেনচুরা: পেট ডিটেকটিভ’, ‘দ্য ট্রুম্যান শো’, ‘ম্যান অন দ্য মুন’ এবং ‘ব্রুস অলমাইটি’র মতো সিনেমা তাকে আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত করেছে।
বিশেষ করে কমেডি চরিত্রে তার অভিনয় তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। তবে ‘দ্য ট্রুম্যান শো’ ও ‘ম্যান অন দ্য মুন’-এর মতো সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি যে শুধু কৌতুক অভিনেতা নন, বরং বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার সক্ষমতাও রাখেন, সেটিও প্রমাণ করেছেন।
২০২৬ সালের সিজার অ্যাওয়ার্ডস জিম ক্যারির ক্যারিয়ারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন ছিল। ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে তাকে সম্মানসূচক সিজার পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তিনি নিজের ক্যারিয়ার, পরিবার ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের নিয়ে কথা বলেন।
তার বক্তব্যে মিন আহর উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। তিনি তাকে নিজের বিশেষ সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করেন। জিম ক্যারির মতো সাধারণত ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে না বলা একজন তারকার এমন বক্তব্যকে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব দেয় আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যম।
এর কয়েক মাস পরই তাদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। ফলে ফেব্রুয়ারির সেই প্রকাশ্য উপস্থিতির পর সেপ্টেম্বরের ব্যক্তিগত বিয়ে তাদের সম্পর্কের ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি হিসেবে সামনে এসেছে।
জিম ক্যারি ও মিন আহর বিয়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো এর গোপনীয়তা। হলিউডের বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও তারা বড় কোনো আয়োজন বা প্রকাশ্য অনুষ্ঠান করেননি। লস অ্যাঞ্জেলেসে ছোট ও ব্যক্তিগত আয়োজনে বিয়ে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিয়েতে কতজন অতিথি ছিলেন, তাদের মধ্যে হলিউডের পরিচিত তারকা কারা ছিলেন এবং জিম ক্যারির মেয়ে জেন বা নাতি জ্যাকসন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কি না এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
এমনকি বিয়ের ছবি বা ভিডিও নিয়েও এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা সামনে আসেনি। ফলে জিম ক্যারি ও মিন আহ তাদের বিশেষ দিনটিকে নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছেন বলেই প্রকাশিত তথ্য থেকে বোঝা যায়।
জিম ক্যারির সঙ্গে বিয়ের পর মিন আহকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও বেড়েছে। এতদিন তিনি তুলনামূলকভাবে আড়ালে থাকলেও সিজার অ্যাওয়ার্ডস এবং পরবর্তী সময়ে বিয়ের খবরের কারণে আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমে তার নাম উঠে এসেছে।
তার অভিনয়জীবন ও ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য না থাকায় ভক্তদের মধ্যে তাকে নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে তাদের সম্পর্কের বিষয়ে জিম ক্যারি বা মিন আহ নিজেরা যতটুকু প্রকাশ করেছেন, তার বাইরে অতিরিক্ত তথ্য নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা তৈরি হতে পারে। প্রকাশিত ও নিশ্চিত তথ্যের বাইরে তাদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অনুমান করা ঠিক হবে না।
৬৪ বছর বয়সে তৃতীয় বিয়ে জিম ক্যারির ব্যক্তিগত জীবনের একটি নতুন অধ্যায়। ১৯৮৭ সালে মেলিসা ওমারের সঙ্গে প্রথম বিয়ে, ১৯৯৬ সালে লরেন হলির সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে এবং দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালে মিন আহর সঙ্গে তৃতীয় বিয়ে তার বৈবাহিক জীবনের এই তিনটি অধ্যায় একে অপরের থেকে অনেকটাই আলাদা।
মিন আহর সঙ্গে সম্পর্কটিও দীর্ঘ সময় ধরে জনসাধারণের নজরের বাইরে ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিজার অ্যাওয়ার্ডসে প্রকাশ্যে একসঙ্গে উপস্থিত হওয়ার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর সেপ্টেম্বরের শেষ দিনে বিয়ের খবর সামনে আসে।
তবে বিয়ের বিস্তারিত আয়োজন, অতিথি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনো খুব বেশি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো জিম ক্যারি ও মিন আহ লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্যক্তিগত আয়োজনে বিয়ে করেছেন এবং এটি জিম ক্যারির তৃতীয় বিবাহ।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সিনেমা ও চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের বিনোদন দেওয়া জিম ক্যারির ব্যক্তিগত জীবনে এই নতুন অধ্যায় তাই ভক্তদের জন্যও বেশ আলোচিত একটি খবর হয়ে উঠেছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন