নওগাঁ প্রতিনিধিঃ সুদাম চন্দ্র
নওগাঁ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজা হরনাথ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬৩তম বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। দিনভর বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান এবং সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় আনন্দ-উৎসবের মিলনমেলায়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শ.ম.আ. আল কাফী তুহিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আনিসুর রহমান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাফর আলি শেখের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৬৩তম বার্ষিক আয়োজনকে ঘিরে সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আমেজ। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। বিভিন্ন ইভেন্টে তাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো বিদ্যালয় চত্বর হয়ে ওঠে সরব ও প্রাণচঞ্চল।
শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি ভালো ফলাফল করা মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতেও অনুষ্ঠানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাদের উৎসাহ ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে নগদ অর্থ পুরস্কারও বিতরণ করা হয়। সম্মাননা স্মারক ও নগদ ২ হাজার টাকা করে পুরস্কার পেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য শুধু শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনা যথেষ্ট নয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার ও অনলাইন গেমে অতিরিক্ত আসক্তি থেকে নিজেদের দূরে রেখে পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মোবাইল ফোন ও অনলাইন বিনোদনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে। তাই তাদের সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের অবসর সময়কে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পরে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার হাতে পেয়ে বিজয়ীদের মধ্যে দেখা যায় উচ্ছ্বাস। সহপাঠীদের সাফল্যেও বিদ্যালয়জুড়ে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।
তবে দিনের আনুষ্ঠানিকতা এখানেই শেষ হয়নি। পুরস্কার বিতরণীর পর সন্ধ্যায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। শিক্ষার্থীদের নাচ, গানসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় চত্বর হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।
দিনভর ক্রীড়া ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক আয়োজনে শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও উপস্থিত দর্শনার্থীরাও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। নাচ-গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজন।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও নগদ পুরস্কার তাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহিত করবে।
তাদের মতে, খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা গেলে মাদক, অনলাইন গেমের অতিরিক্ত আসক্তিসহ বিভিন্ন নেতিবাচক প্রবণতা থেকে তাদের দূরে রাখা সহজ হবে। তাই প্রতিবছরের মতো ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
এভাবে ১৬৩তম বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজনটি শুধু পুরস্কার বিতরণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার বিকাশ এবং আনন্দ-উৎসবের একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন