চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। বিশেষ অভিযানে উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের একটি ঝোপ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ব্রাজিলের বিখ্যাত অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টরাস (Taurus)-এর তৈরি একটি আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল।

শনিবার (১১ জুলাই) কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অস্ত্রটির উৎস, মালিকানা এবং এটি কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে।

গভীর রাতে বিশেষ অভিযান

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে কর্ণফুলী থানার নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানটি চালানো হয় কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈন্যারটেক পুল এলাকার চার রাস্তার মোড়সংলগ্ন একটি ঝোপে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে একটি পরিত্যক্ত ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

অস্ত্রটি উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রটি ফেলে পালিয়ে যায়। তবে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

ম্যাগাজিন ছাড়াই উদ্ধার

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটির সঙ্গে কোনো ম্যাগাজিন পাওয়া যায়নি।

পিস্তলটির বাট প্লাস্টিকের তৈরি এবং মূল বডি লোহার। এছাড়া ট্রিগার, স্লাইড ও ফায়ারিং পিন অক্ষত রয়েছে। ফলে অস্ত্রটি ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় ছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

ব্রাজিলের টরাস কোম্পানির অস্ত্র হতে পারে

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টরাস (Taurus)-এর তৈরি ৯ এমএম ক্যালিবারের একটি আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটি টরাসের এ-৩ সিরিজের (A3 Series) একটি মডেলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্তভাবে মডেল শনাক্ত করতে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা প্রয়োজন হবে।

টরাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক নিরাপত্তা খাতে ব্যবহৃত অস্ত্র উৎপাদনের জন্য পরিচিত। বাংলাদেশেও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এ ধরনের ৯ এমএম পিস্তল ব্যবহারের নজির রয়েছে।

সরকারি অস্ত্র কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে

কর্ণফুলী থানার ওসি মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি পূর্বে কোনো থানা বা সরকারি সংস্থা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র কি না, অথবা কোনো বাহিনীর বরাদ্দকৃত অস্ত্র কি না—তা যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি জানান, অস্ত্রটির সিরিয়াল নম্বর, উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে প্রকৃত মালিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ব্যালিস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে মিলবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রটি ব্যালিস্টিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ব্যালিস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে—

  1. পিস্তলটি আগে কোনো অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে কি না।
  2. কোনো হত্যাকাণ্ড বা গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে কি না।
  3. অস্ত্রটির কার্যক্ষমতা ঠিক আছে কি না।
  4. এর সঙ্গে অন্য কোনো মামলার আলামতের মিল রয়েছে কি না।

তদন্তে এসব তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে একাধিক বিষয়

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  1. অস্ত্রটি কীভাবে ওই এলাকায় এল।
  2. কারা এটি সেখানে ফেলে গেছে।
  3. এর সঙ্গে কোনো অপরাধী চক্র জড়িত কি না।
  4. সাম্প্রতিক কোনো অপরাধে এটি ব্যবহৃত হয়েছিল কি না।
  5. এটি সরকারি বা বেসরকারি কোনো উৎস থেকে অবৈধভাবে বের হয়েছে কি না।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে

ওসি মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, ব্যালিস্টিক রিপোর্ট এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারীদের শনাক্তে কর্ণফুলী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।