আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন দুর্দান্ত শুরু করেও বড় ধসের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। একসময় ২ উইকেটে ২২১ রান তুলে শক্ত অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩১৬ রান করেছে। তানজিদ হাসান ও সাদমান ইসলামের ফিফটির পর লিটন দাসের অর্ধশতক দলকে তিনশ রানের গণ্ডি পার করলেও শেষ দিকে আফগান বোলারদের দাপটে হতাশা নিয়ে দিন শেষ করতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তদের।

আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসের পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ হাসান ও সাদমান ইসলাম যোগ করেন ১২৪ রান। দুই ওপেনারের ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে দিনের শেষ ভাগে সেই সম্ভাবনাকে অনেকটাই ম্লান করে দেয় আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তানজিদ হাসান। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৩ রান করেন তিনি। দ্রুত রান তুলে দলের ইনিংসকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি তার।

অন্য প্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন সাদমান ইসলাম। ১১১ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৬৭ রান করেন তিনি। ওপেনিং জুটির বিদায়ের পর তৃতীয় উইকেটে সাদমান ও মুমিনুল হক যোগ করেন আরও ৬০ রান। মুমিনুলও ভালো শুরু পেয়েছিলেন, কিন্তু ৩৯ রানে থেমে যায় তার ইনিংস।

বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামে ২২১ রানের মাথায়। দুই উইকেটে ২২১ রান থেকে মাত্র ৪ রান যোগ করতেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে দলটি। মুমিনুল হক ফেরার পর কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ২৯ রান করে আউট হন। অল্প সময়ের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এ অবস্থায় লিটন দাস ও লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ৮৯ বলে ৫৩ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন লিটন। তার ব্যাটেই তিনশ রানের মাইলফলক অতিক্রম করে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। তবে লিটন আউট হওয়ার পর আবারও চাপে পড়ে দল।

দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩১৬ রান। নাঈম হাসান ৩৩ বলে ১১ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। তার সঙ্গে চার রানে ব্যাট করছেন তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় দিন সকালে এই জুটি কতটা রান যোগ করতে পারে, সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আফগানিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার মোহাম্মদ সেলিম। ৭০ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। ইয়ামিন আহমদজাই ও ইসমত আলম দুটি করে উইকেট পেয়েছেন। কায়েস আহমেদ নিয়েছেন একটি উইকেট। প্রথম দিনের শেষ ভাগে আফগানিস্তানের এই ঘুরে দাঁড়ানোয় ম্যাচে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা।